সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৪: পুরো বছরের ছুটির সময়সূচি

২০২৪ সালে বাংলাদেশের সরকারি ছুটির তালিকা আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ, নির্বাহী আদেশে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় বা ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে এই ব্লগটি পড়ুন।

Table of Contents

সাধারণ ছুটি – সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৪

২০২৪ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় সাধারণ ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি পালিত হবে। বাংলাদেশে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পালিত হবে।

২০২৪ সালের সাধারণ ছুটির তালিকা:

তারিখদিনউপলক্ষ
২১ ফেব্রুয়ারিবুধবারআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
১৭ মার্চরবিবারজাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস
২৬ মার্চমঙ্গলবারস্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস
১৪ এপ্রিলরবিবারবাংলা নববর্ষ
১ মেবুধবারশ্রমিক দিবস
৬ এপ্রিলশনিবারশুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা
১৫ আগস্টবৃহস্পতিবারজাতীয় শোক দিবস
১৬ ডিসেম্বরসোমবারবিজয় দিবস
ঈদুল ফিতরনির্ধারিত নয়চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল
ঈদুল আযহানির্ধারিত নয়চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল
আশুরানির্ধারিত নয়চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল
ঈদে মিলাদুন্নবীনির্ধারিত নয়চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল
বড়দিন২৫ ডিসেম্বরখ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য

উল্লেখযোগ্য বিষয়:

  • কিছু ছুটি, যেমন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, আশুরা, এবং ঈদে মিলাদুন্নবী, চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। এই ছুটিগুলোর সঠিক দিন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে।
  • এই সাধারণ ছুটির দিনগুলোতে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।

নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি – সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৪

২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার নির্বাহী আদেশে কিছু অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এই ছুটিগুলো সাধারণত বিশেষ কিছু উপলক্ষ এবং ধর্মীয় উৎসবের জন্য দেয়া হয় এবং এগুলো সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। সাধারণ ছুটির পাশাপাশি এই নির্বাহী আদেশে ছুটিগুলোও সরকারি ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তালিকা:

তারিখদিনউপলক্ষ
১১ ফেব্রুয়ারিরবিবারসরস্বতী পূজা
১৭ এপ্রিলবুধবারবাংলা নববর্ষের পরে দিন
৫ অক্টোবরশনিবারদুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী)
১৫ নভেম্বরশুক্রবারদীপাবলি

উল্লেখযোগ্য বিষয়:

  • এই ছুটিগুলো সাধারণত নির্বাচিত বিশেষ উপলক্ষের জন্য নির্ধারিত হয়, যা ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক উপলক্ষকে কেন্দ্র করে পালিত হয়ে থাকে।
  • নির্বাহী আদেশে দেয়া ছুটিগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উৎসবের জন্য প্রযোজ্য।
  • এই ছুটিগুলোর দিনগুলোতে নির্দিষ্ট সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, তবে সব প্রতিষ্ঠান এই ছুটি পালন করে না।

মুসলিম ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটি – সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৪

২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার মুসলিম ধর্মীয় উপলক্ষকে ঘিরে কিছু ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করেছে। এসব ছুটিগুলি মুসলিম কর্মচারীদের জন্য, যারা তাদের ধর্মীয় উৎসবগুলো উদযাপনের জন্য ছুটি নিতে পারেন। এই ছুটিগুলো বাধ্যতামূলক নয়, বরং কর্মচারীরা চাইলে এই দিনে ছুটি নিতে পারেন।

২০২৪ সালের মুসলিম ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটির তালিকা:

তারিখদিনউপলক্ষ
১৪ ফেব্রুয়ারিবুধবারশবে মেরাজ
১৬ মার্চশনিবারশবে বরাত
৬ মেসোমবারশবে কদর
১৫ জুনশনিবারঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ)

বিশেষ উল্লেখ:

  • ঐচ্ছিক ছুটি: এই ছুটিগুলো ঐচ্ছিক, অর্থাৎ মুসলিম কর্মচারীরা তাদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী এই দিনগুলোতে ছুটি নিতে পারেন।
  • ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান: এই ছুটিগুলো মূলত মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুবিধার্থে দেয়া হয়ে থাকে।
  • ছুটির নিয়ম: ঐচ্ছিক ছুটির জন্য সাধারণত আগাম জানানো বা আবেদন করা প্রয়োজন হয়।

হিন্দু ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটি – সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৪

২০২৪ সালে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবগুলোর জন্য বাংলাদেশ সরকার কিছু ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মচারীরা চাইলে এসব উৎসব উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেন। এসব ছুটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং কর্মচারীদের ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য দেয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের হিন্দু ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটির তালিকা:

তারিখদিনউপলক্ষ
২৬ মার্চমঙ্গলবারদোলযাত্রা
৭ সেপ্টেম্বরশনিবারজন্মাষ্টমী

বিশেষ উল্লেখ:

  • ঐচ্ছিক ছুটি: এই ছুটিগুলোতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মচারীরা চাইলে ছুটি নিতে পারেন, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
  • ধর্মীয় উপলক্ষ: হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের জন্য বিশেষভাবে এই ছুটিগুলো দেয়া হয়েছে যাতে কর্মচারীরা উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
  • ছুটি গ্রহণের প্রক্রিয়া: ঐচ্ছিক ছুটি নেয়ার জন্য সাধারণত আগাম আবেদনের প্রয়োজন হয়, যাতে কর্মস্থলের প্রশাসন যথাযথভাবে ছুটির ব্যবস্থা করতে পারে।

খ্রিষ্টান ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটি – সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৪

২০২৪ সালে খ্রিষ্টান ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার কিছু ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করেছে। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কর্মচারীরা এসব উৎসবের সময় ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এসব ছুটি বাধ্যতামূলক নয় বরং কর্মচারীদের ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগ দিতে দেয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের খ্রিষ্টান ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটির তালিকা:

তারিখদিনউপলক্ষ
২৯ মার্চশুক্রবারগুড ফ্রাইডে
২৫ ডিসেম্বরবুধবারবড়দিন (ক্রিসমাস)

বিশেষ উল্লেখ:

  • ঐচ্ছিক ছুটি: খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কর্মচারীরা নিজেদের ধর্মীয় উৎসবের জন্য এসব ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন, তবে এই ছুটিগুলো বাধ্যতামূলক নয়।
  • ধর্মীয় উপলক্ষ: খ্রিষ্টান ধর্মীয় উৎসবের সময়ে কর্মচারীরা যাতে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ছুটিগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • ছুটি গ্রহণের প্রক্রিয়া: ঐচ্ছিক ছুটি নেয়ার জন্য কর্মচারীদের সাধারণত আগাম আবেদন করতে হয়, যাতে কর্মস্থলে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়।

বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটি – সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৪

২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কর্মচারীদের জন্য কিছু ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করেছে, যা তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগ দেবে। এসব ছুটি বাধ্যতামূলক নয়; বরং ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য কর্মচারীরা ইচ্ছা করলে এই ছুটি নিতে পারবেন।

২০২৪ সালের বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটির তালিকা:

তারিখদিনউপলক্ষ
২৩ মেবৃহস্পতিবারবুদ্ধ পূর্ণিমা

বিশেষ উল্লেখ:

  • ঐচ্ছিক ছুটি: বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কর্মচারীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন, তবে এটি বাধ্যতামূলক ছুটি নয়।
  • ধর্মীয় উপলক্ষ: বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে পারেন।
  • ছুটি গ্রহণের প্রক্রিয়া: কর্মচারীদের সাধারণত এই ছুটির জন্য পূর্বেই আবেদন করতে হয়, যাতে কর্মস্থলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐচ্ছিক ছুটি – সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৪

২০২৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীদের জন্য কিছু ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের সুযোগ দেবে। এই ছুটিগুলো ঐচ্ছিক এবং শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য।

২০২৪ সালের পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐচ্ছিক ছুটির তালিকা:

তারিখদিনউপলক্ষ
১২ এপ্রিলশুক্রবারবৈসাবি উৎসব
১৩ এপ্রিলশনিবারবৈসাবি উৎসব
১৪ এপ্রিলরবিবারবৈসাবি উৎসব

বিশেষ উল্লেখ:

  • ঐচ্ছিক ছুটি: পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা এই উৎসবের সময় ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেন।
  • বৈসাবি উৎসব: এই উৎসবটি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান উৎসব, যেখানে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সামাজিক বন্ধনের প্রকাশ ঘটানো হয়। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায় এটি বিভিন্ন নামে উদযাপন করে—যেমন, বৈসুক, সংগ্রাইবিহু
  • ছুটি গ্রহণের পদ্ধতি: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীরা এই ছুটির জন্য পূর্বেই তাদের প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারেন।

২০২৪ সালের স্কুল ও ব্যাংক ছুটির তালিকা (সংক্ষেপে) – সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৪

২০২৪ সালে বাংলাদেশে স্কুল ও ব্যাংকের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও ধর্মীয় দিবসগুলোতে এই ছুটি পালিত হবে। নিচে সংক্ষেপে স্কুল এবং ব্যাংকের জন্য ছুটির তারিখ দেওয়া হলো:


স্কুলের ছুটির তালিকা:

১. ২১ ফেব্রুয়ারি – আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
২. ১৭ মার্চ – জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী
৩. ২৬ মার্চ – স্বাধীনতা দিবস
৪. ১৪ এপ্রিল – বাংলা নববর্ষ
৫. ১ মে – শ্রমিক দিবস
৬. ১৬ ডিসেম্বর – বিজয় দিবস

বি.দ্র.: ঈদ, পূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা এবং বড়দিনের মতো ধর্মীয় ছুটিগুলোও স্কুল ছুটির অন্তর্ভুক্ত। তবে এগুলো নির্দিষ্ট স্কুলের নোটিশ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।


ব্যাংকের ছুটির তালিকা:

১. ২১ ফেব্রুয়ারি – আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
২. ২৬ মার্চ – স্বাধীনতা দিবস
৩. ১৪ এপ্রিল – বাংলা নববর্ষ
৪. ১ মে – শ্রমিক দিবস
৫. ১৬ ডিসেম্বর – বিজয় দিবস

অতিরিক্ত ধর্মীয় ছুটি: ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, এবং অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের জন্য ব্যাংক ছুটি থাকবে। তবে, এসব ছুটি সাধারণত মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, ও বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।


নোট: ব্যাংক ও স্কুল ছুটির তারিখ সরকারিভাবে নির্ধারিত থাকে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে পরিবর্তন হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *